
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
Published:18 Aug 2025, 04:42 AM
সাড়ে সাত মাসে বিনিয়োগকারীদের ৪৩% অভিযোগ নিষ্পত্তি, দ্রুত সমাধানে কার্যকর সিসিএএম
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে মোট ২২৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৯৮টি নিষ্পত্তি হয়েছে, আর বাকি ১২৯টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া সিসিএএম মূলত ক্যাশ ও স্টক ডিভিডেন্ড বকেয়া, বিক্রি হওয়া শেয়ারের অর্থ না পাওয়া কিংবা অননুমোদিত শেয়ার বিক্রির মতো নানা অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির পথ খুলে দেয়।
জানুয়ারি: সর্বোচ্চ ২৮টি অভিযোগ, সমাধান হয়েছে ২৩টি।
আগস্ট: ১১টি অভিযোগের মধ্যে সমাধান মাত্র ২টি।
শেষ সাড়ে তিন মাসে: মোট ১০৪টি অভিযোগ, সমাধান হয়েছে ৩২টি (প্রায় ৩১%)।
চালু হওয়ার পর থেকে প্ল্যাটফর্মটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৯৩৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে—হার দাঁড়িয়েছে ৯২.২ শতাংশ।
আগে বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য সরাসরি বিএসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জে যেতে হতো, যেখানে সময় লাগত মাসের পর মাস, কখনো বছরও। বর্তমানে অনলাইনে অভিযোগ নিষ্পত্তি হচ্ছে গড়ে ৩৩.৭ দিনে। ফলে বিদেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সহজেই অভিযোগ দায়ের করতে পারছেন।
বিএসইসি কর্মকর্তাদের মতে, সিসিএএমের স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। অভিযোগকারীরা অনলাইনে তাদের অভিযোগের অবস্থা রিয়েল টাইমে দেখতে পান, সমাধান হলে ই-মেইল নোটিফিকেশন পান। এমনকি কোনো অভিযোগ দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকলে প্ল্যাটফর্ম থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিএসইসি ইতোমধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জ, স্টকব্রোকার এবং সিডিবিএলসহ সব পক্ষকে সিসিএএম নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছে। এক্সচেঞ্জগুলো তাদের ট্রেক হোল্ডারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমাধান করে, আর সিডিবিএল ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ নিয়ে কাজ করে। নির্ধারিত সময়ে সমাধান না হলে বিষয়টি সরাসরি বিএসইসিতে পাঠানো হয়।
সিসিএএমের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ার লেনদেনের বিলম্ব, মার্জিন ঋণ, জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রি কিংবা শেয়ার হস্তান্তরে ব্যর্থতার কারণে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগও সহজে জানাতে পারছেন।
👉 সব মিলিয়ে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সিসিএএম কেবল অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যম নয়, বরং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।